অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) এএফপি, রয়টার্স ও স্কাই নিউজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজাদ কাশ্মীরভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) বিধানসভায় সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন আন্দোলন শুরু করে। পরে ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গত প্রায় দুই সপ্তাহে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। (প্রদত্ত তথ্যের একটি অংশে "নিহত" শব্দটি ব্যবহার করা হলেও সংখ্যার প্রেক্ষাপটে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আহত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।)
আজাদ কাশ্মীরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র বর্তমানে রাওয়ালকোট শহর, যা রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
চলমান অস্থিরতায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহাম্মদ মাসকিন বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের চেষ্টা করেও তিনি তা পাননি। অনেক ফার্মেসি বন্ধ রয়েছে এবং খোলা দোকানগুলোতেও ওষুধের সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে।
আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেন জানান, গত আটদিন ধরে বাজার কার্যত অচল। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু সীমিত পরিমাণে শাক-সবজি বিক্রি হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

