যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্থল, নৌ ও আকাশপথে তাৎক্ষণিক, পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খসড়ায় সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের অঙ্গীকারের পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে শত্রুতামূলক প্রচারণা বন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি রাখা হয়েছে।
আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই দেশ একমত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাত দিনের মধ্যে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন দফা আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আল-আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতিই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো আলোচনার বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তবে আগের তুলনায় দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি পারমাণবিক উপাদান বিদেশে পাঠানো হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

