কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই সীমিত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুবিওর এ বক্তব্যের পরপরই কিউবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানো’ এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে সামরিক চাপ সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ তুলেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করে নাগরিক হত্যার অভিযোগ সামনে আসার একদিন পরই রুবিওর এই মন্তব্য আসে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার এখনো কূটনৈতিক সমাধান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
অন্যদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ রুবিওর বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্রই দীর্ঘদিন ধরে তার দেশের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
রুবিও আরও দাবি করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত, যদিও কিউবা সরকার এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের কারণে কিউবা বর্তমানে জ্বালানি ও খাদ্য সংকটে ভুগছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অর্থনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব কূটনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

