যুদ্ধবিরতি ও চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “তাদের খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় একেবারেই ফুরিয়ে আসছে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে দেওয়া এ মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটন এখনো কার্যকর কোনো ছাড় দেয়নি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা না দেখালে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদসূত্র বলছে, ওয়াশিংটন পাল্টা কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে ইরানকে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিষয়ও রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনি সমঝোতায় যেতে পারেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো কাটেনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন নৌ-অবরোধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

