যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
খবরে বলা হয়, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালে এ নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ পুনর্গঠন কার্যক্রমে ব্যয় করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই রুট ব্যবহার করছে। যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ বিশেষ ব্যবস্থায় চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দাবি করা হতে পারে। তবে বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠান এ অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানে হামলা স্থগিতের মার্কিন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হলেও শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
এই অবস্থান পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির পর নিজেদের কৌশলগত সাফল্যের দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। দেশটির প্রেস সেক্রেটারি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

