AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

হেপাটাইটিস: কোন লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন


Ekushey Sangbad
লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২:১২ পিএম, ২১ জুলাই, ২০২৬

হেপাটাইটিস: কোন লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

হেপাটাইটিস অনেক সময় দীর্ঘদিন শরীরে থাকলেও শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণেই রোগটিকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। তবে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. রাজেশ বাথিনি জানিয়েছেন, বিশ্রাম, সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই হেপাটাইটিস থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একরকম থাকে না। কারও কারও ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই রোগটি জটিল রূপ নিতে পারে।

তাই কিছু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, হালকা জ্বর এবং চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও, পরবর্তী সময়ে কিছু সতর্ক সংকেত গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

চোখ বা ত্বক হালকা হলুদ হওয়া হেপাটাইটিসে সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এক-দুই দিনের মধ্যে যদি হলুদ রং দ্রুত গাঢ় হয়ে যায়, প্রস্রাবের রং অনেক বেশি গাঢ় হয় এবং পায়খানার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
লিভার রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ, যেমন অ্যামোনিয়া, অপসারণ করতে না পারলে তা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। একে বলা হয় হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি। রোগীর অসংলগ্ন কথা বলা, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, আচরণে পরিবর্তন বা হাত কাঁপা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।
রক্ত বমি বা কালো পায়খানা দেখা দিলেই সবধান হতে হবে।  এটি পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, সামান্য আঘাতেই বড় কালশিটে পড়া এসব ইঙ্গিত দেয় যে লিভার ঠিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি করতে পারছে না।
পেটে পানি জমা বা সংক্রমণের কারণে এমন হতে পারে। এটি গুরুতর জটিলতার লক্ষণ।
উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলেও সাবধান হতে হবে।  লিভারের সমস্যার পাশাপাশি শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত  হতে পারে।
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিডনিও আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা গুরুতর লিভার রোগের একটি জটিলতা।
এছারাও অবিরাম বমির কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, যা লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ঝুঁকিতে যারা 
বিশেষজ্ঞদের মতে সবার হেপাটাইটিস সবার শরীরে সমানভাবে সমস্যা দেখা দেয় না। অনেকেই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন আর এ তালিকায় আছে গর্ভবতী নারী বিশেষ করে হেপাটাইটিস ই আক্রান্তরা। বয়স্ক ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে থাকেন। আগে থেকেই লিভারের রোগ আছে এমন রোগীদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়। ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি রয়েছে।  


কেন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?

ডা. রাজেশ বাথিনি বলেন, গুরুতর ক্ষেত্রে লক্ষণ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর বা তীব্র লিভার বিকলতা দেখা দিতে পারে। লিভারের নিজে থেকে সুস্থ হওয়ার ক্ষমতা থাকলেও একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর সেই ক্ষমতা হারিয়ে যায়। তখন নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) বা লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই বিপদ দেখা দেয়ার পর ঘাবড়ে যান আবার কেউ শান্তভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। জটিল সমস্যাগুলো দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামল নেয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তবে বমির কারণে পানি রাখতে না পারলে চিকিৎসা নিন। সমস্যা জটিল হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কাজ করাই ভালো।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!