ইরানের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘ট্রু প্রমিজ–৪’-এর প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যুদ্ধজাহাজে একাধিক আঘাত হানার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের উপকূলীয় জলসীমা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানি বাহিনীর হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নায়েইনি দাবি করেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের তথ্য গোপন বা অস্বীকার করলেও ইরানের গোয়েন্দা ও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে এই সংখ্যার সত্যতা মিলেছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও জানান, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার একটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অন্তত ১৬০ জন হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নায়েইনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক আগ্রাসনের জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং ‘ট্রু প্রমিজ–৪’ ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

