ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের পরই সপ্তাহের শেষ দিকে পরিকল্পিত বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে সরে আসে মার্কিন প্রশাসন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানান, বড় পরিসরে হামলা চালানো সম্ভব হলেও এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটির সুরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টানা সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরানের ভেতরে জাতীয়তাবাদী ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশি হুমকির মুখে দেশটির জনগণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার ও শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন বাহিনী।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

