আনন্দ র্যালি, আলোচনা সভা, সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা এবং একাধিক নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ায় উদযাপিত হয়েছে বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি বানেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে দিয়ে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডল। অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদ মেহেরিন চৌধুরী অডিটোরিয়াম, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ক্লাইমেট ক্লাব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে হবে।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং স্কুলটির জাতীয়করণের গণতাবি হলে তিনিও একমত হয়ে বলেন, জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। তাছাড়া বানেশ্বর বাজার এখন শহরে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে পৌরসভা হয়ে যাবে। পুঠিয়া-দুর্গাপুর কে নিয়ে আমাদের প্ল্যান আছে সেভাবেই আগাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু জাফর আলী, সহকারী অধ্যাপক মো. সোহেল আহমেদ, বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক দুলাল এবং বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হযরত আলী সরকার।
বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাহাবুর সরকার (জনি)-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি-সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ১২০ বছরের পথচলায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। নতুন চালু হওয়া ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, বিতর্কচর্চা ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, মিড ডে মিল কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

