AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

খামেনির মৃত্যুতে কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০:৫৪ এএম, ১ মার্চ, ২০২৬

খামেনির মৃত্যুতে কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্র কে হাতে নেবেন—তা নিয়ে তেহরানে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও জল্পনা। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের প্রতীক ছিলেন খামেনি। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা শুধু রাজনৈতিক প্রধান নন—তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং কৌশলগত সব সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

উত্তরসূরি নির্ধারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর ওপর ন্যস্ত। এই পরিষদের সদস্যরা সবাই জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম। তাদের ভোটেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

ইরানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নাম বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন খামেনি। তাঁরা হলেন—

  • বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই

  • সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি

  • সংস্কারপন্থি ধর্মীয় নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি

এ ছাড়া খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনির নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও, ইরানের নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক রূপ দিতে খামেনি আগ্রহী ছিলেন না বলেই বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী ক্ষমতা কার হাতে

ইসরায়েলি হামলার আগমুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারিজানিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। বাস্তবে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের পাস্তুর কমপ্লেক্সে চালানো হামলায় সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা

খামেনির শাসনামলে সংকটকালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একটি সীমিত রাজনৈতিক ও সামরিক বলয়ের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। সেই বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন—

  • আলী আসগর হেজাজি

  • পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ

  • সাবেক আইআরজিসি প্রধান ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি

তবে খামেনির মৃত্যুর পর এই মুহূর্তে কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নেতৃত্বে ক্ষতি হলেও আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইরান কোনো আপস করবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশেষজ্ঞ পরিষদের বৈঠক বসতে পারে। সেই বৈঠক থেকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

খামেনির পর ইরানের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে ধর্মীয় কর্তৃত্ব, সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!