AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

‍‍`আমের আঁটি থেকে ভোজ্যতেলের চাহিদার ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব‍‍`


Ekushey Sangbad
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬:২৫ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪
‍‍`আমের আঁটি থেকে ভোজ্যতেলের চাহিদার ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব‍‍`

আমের আঁটি থেকে উৎপাদিত তেল দিয়ে দেশের বার্ষিক ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার ৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব বলে দাবি করেছেন গবেষক ও সিরড্যাপের সাবেক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর সেলিম।

সোমবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশে আম উৎপাদন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে এ দাবি করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ২৫-২৭ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। গবেষণার মাধ্যমে এসব আমের আঁটি থেকে ভোজ্যতেলের উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, আমের আঁটি থেকে উৎপাদিত তেল দিয়ে দেশের বার্ষিক ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার ৪ শতাংশ পর্যন্ত মেটানো সম্ভব।’

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোখলেসুর রহমান আমের নতুন জাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিষয়ক মুখ্য আলোচনা করেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাজার সৃষ্টি করতে না পারা, উন্নত মানের নিরাপদ আম রফতানির জন্য রফতানিকারকদের অনীহা ও মানসিকতার অভাবে আম রফতানিতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে, বলছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া আমে উপস্থিত পেস্টিসাইডের রেসিডিও অ্যানালাইসিস ও ফলের গুণমান পরীক্ষার জন্য পূর্ণ সক্ষমতা সম্পন্ন অ্যাডিক্টেড লাইব্রেরির অভাব ও রফতানি ক্ষেত্রে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার কারণে আম রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এমনটি জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি) এর কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে আম উৎপাদনে অন্যতম হলেও রফতানির দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। প্রতিবছর প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। কিন্তু সেখান থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্ষতি হয়।

এছাড়া পিক মৌসুমে উৎপাদন বেশি হওয়ায় মূল্য কমে যায়; ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিগত কয়েক বছরের রফতানি কিছুটা বাড়লেও তা আশানুরূপ হয়নি বলেও জানান মোখলেসুর রহমান।

তিনি বলেন, রফতানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা দরকার। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধিসহ আমের উন্নত সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষ করে কোয়ারেন্টাইন পেস্ট (ফ্রুট ফ্লাই, এনট্রাক নোজ ও বোঁটা পচা রোগ) ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ অন্যান্য পরিচর্যা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে আম উৎপাদনে সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের আমের মতো সুস্বাদু আম বিশ্বের কোথাও নেই। আমের উৎপাদন বাড়িয়ে রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রদেখা হয়েঝেঞঞঞঞঞঞ সারসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরো করণীয় আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হলেও মাত্র একটি কোয়ারাইন্টাইন সেন্টার রয়েছে। এটি আরও বাড়ানো দরকার। এছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধিসহ ব্যাবসায়িক উদ্যোগ বাড়াতে সরকারের সচেষ্ট হতে হবে।

এছাড়া আম রফতানির জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হলো:

  • রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার সীমিত রেখে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে আম উৎপাদন করা।
  • আমের প্যাকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
  • আম পরিবহনের জন্য আধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা।
  • বিমানের কার্গোতে আম পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজতর করা।
  • রফতানি উপযোগী আমের চাষ সম্প্রসারণ করা।
  • আমচাষি বিশেষ করে রফতানির জন্য আম উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • আম থেকে উৎপাদিত পণ্য যেমন জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, ক্যান্ডি ইত্যাদির বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করা।
  • আমভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সহজশর্তে ঋণ দেয়া।
  • জৈব প্রযুক্তি নির্ভর আম উৎপাদন উৎসাহিত করা।
  • আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্যাকিং ও পরিবহণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া।
  • আম রফতনির জন্য রফতানিকারকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং মানদণ্ড ঠিক করে দেয়া।

সেমিনাররের সভাপতিত্ব করেন সিজেএফডির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড.শেখ মোহাম্মাদ বখতিয়ার প্রমুখ।


একুশে সংবাদ/স.ট.প্র/জাহা

Link copied!