বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ঘের দখলের চেষ্টাকালে আলোচিত চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি মামুন ফকির (৩৫)–কে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় তার সহযোগী মো. হাসান ফকিরকেও আটক করা হয়। অভিযানে একটি ঘের থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা এলাকায় যৌথ বাহিনীর এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটক মামুন ফকির ও মো. হাসান ফকির উভয়ই মৃত জালাল ফকিরের ছেলে এবং ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বাঁশতলা এলাকায় একটি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও মোংলা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় ঘের দখলের চেষ্টাকালে মামুন ফকিরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত একটি ঘেরঘরে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩১০ টাকা মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মামুন ফকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘের দখল, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থেকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনো ও অনলাইন জুয়ার ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতেন। তার কারণে এলাকার অনেক যুবক জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মামুন ফকির ও তার সহযোগীরা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যদিও তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে নেই, তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় তারা দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চক্রের আশ্রয়ে এসব অপরাধ পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মোংলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন,“বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক আটক দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আলামত যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
অপরদিকে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর রহমান শাহীন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

