ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাসটির চালক, চালকের সহযোগিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলের, বাসের হেলপার মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০), বাসের চালক মো. ইমরান (৩৫) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামানিক (৩০)।
আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল (২৭)। নবীনগর পৌঁছানোর আগেই বাসের অন্যান্য যাত্রীরা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তাঁর সহযোগি জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। পরে চালক ইমরান ভুক্তভোগী নারীর পরিচিত রুবেলকে মারধর করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেন। পরে তিনিও বাস থেকে নেমে যান। এ সময় বাসে ভূক্তভোগী ওই নারী, বাস চালকের পূর্বপরিচিত সুমন প্রামানিক এবং জনি বাসে ছিলেন।
পুলিশ আরো জানায়, পরে সুমনের সহায়তায় জনি চলন্ত বাসে ভুক্তভোগী নারীকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী নারী চিৎকার করেন। বাস থেকে নেমে রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। বিষয়টি জানতে পেরে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অপর একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে সাভার পরিবহনের ওই বাসটি থামান। পরে বাস থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারসহ জনি ও সুমনকে বাসসহ আটক করেন। পরে এঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী নারী। পরে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষটি জানতে পেরে পুলিশের একটি দল ভূক্তভোগীকে উদ্ধারসহ দুজনকে আটক করে। পরে রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী নারী। ওই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে রাড়ইপাড়া এলাকা থেকে থেকে আসামী ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

