গত কয়েক দিনের লাগাতার ভারি বর্ষণে সাতদিন যাবত শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কেওয়া উত্তরপাড়া (চাডা পুকুর পাড়) এলাকার ৪০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ঘরে-বাহিরে কোমড় সমান পানি জমে থাকায় তারা দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছে না। বসতবাড়িতে পানি উঠায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জলাবদ্ধতায় ওই এলাকায় বসবাসকারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় চাডা পুকুরপাড় এলাকায় সরেজমিন গেলে পানিবন্দি পরিবারের ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন। ওই এলাকার ৪০ পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের বসতঘর চাডা পুকুরপাড়ে অবস্থিত। বৃষ্টির ফোঁটা যেন দুঃস্বপ্ন তৈরি হচ্ছে। টানা বর্ষণ হলে তারা কোথায় দাঁড়াবে সে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পানিবন্দির কারণে পাড়ার স্কুল, কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ পানি জমে থাকায় পানিবন্দি পরিবারে রান্নাবান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রীপুর-মাওনা সড়কের কেওয়া বাজার এলাকায় নিচু জমিতে মাটি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত হলে চাডা পুকুরপাড় এলাকায় পানিবদ্ধতা শুরু হয়।
অপরিকল্পিত মাটি ভরাটকারীকে এলাকাবাসী বার বার ধর্ণা দিলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেনি। পানিবদ্ধতার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আত্মীয়র বাসায় অবস্থান নিয়েছেন। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির ভিতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় রান্নাসহ দৈনন্দিন জীবনযাপনে কষ্ট হচ্ছে। অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ ও গৃহপালিত পশু।
আসাদ মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারে না। পচা-নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে গেলে চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হয়।
তিনি বলেন, পানিবন্দি থাকার খবরে শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী সরেজমিন এলাকায় গিয়ে তাদে সাথে কথা বলেছেন। যত দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায় সে বিষয়ে তাদের আশ^াস দিয়েছেন।
রশিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার ২টা রুমের ভিতর ১০দিন যাবত পানি জমে থাকায় রান্না করতে পারছেন না। স্বামী সন্তানদেরকে নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। জমে থাকা পানি সরে না গেলে মাটি নরম হয়ে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে পড়বে।
ষাটোর্ধ্ব চাঁন মিয়া বলেন, ইট্টু (একটু) বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ি আমরা। জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। এলাকার ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতার বলেন, পানিবন্দি থাকার খবরে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বসবাসকারী বাসিন্দাদের পানি নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ করা হবে যাতে পানিবদ্ধতা না হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

