টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও একটি ধর্মশালা। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল ও টয়লেট ব্যবহারে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকেই ইট, বাঁশ কিংবা কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করছেন। কোথাও রান্নার চুলা পানিতে ডুবে থাকায় খাবার প্রস্তুত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবারগুলো।
জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রক্ষা পায়নি। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালায় পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন বা কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে দিনের পর দিন জমে থাকে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই তারা এ দুর্ভোগের শিকার হন। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে বিছানাপত্র, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি সাপের উপদ্রবও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিষ্ণু চক্রবর্তী বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যা হয়। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। মন্দিরে যেতে কষ্ট হচ্ছে, ধর্মশালাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দ্রুত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই।”
আরেক বাসিন্দা দুলর্ভ চন্দ্র পাল বলেন, “এলাকার চারদিকে রাস্তা হয়েছে, কিন্তু পানি যাওয়ার ড্রেন বা খাল ঠিক রাখা হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এ দুর্ভোগের শেষ হবে না।”
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

