AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বরাদ্দ-ভাড়া ছাড়াই সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার



বরাদ্দ-ভাড়া ছাড়াই সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের ডরমেটরিসহ সাতটি আবাসিক ভবনে বরাদ্দ ছাড়াই অবৈধভাবে বসবাস করছেন অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ না নিয়ে সরকারি কোয়ার্টার দখল করে থাকলেও তাঁদের বেশিরভাগই বাসাভাড়া পরিশোধ করেন না। অথচ সরকারি কোয়ার্টারে থাকার পাশাপাশি বেতনের সঙ্গে বাসাভাড়া ভাতাও নিচ্ছেন তারা। কোয়ার্টারগুলোতে কারা, কতদিন ধরে এবং কীভাবে বসবাস করছেন—সে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্যও নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম চললেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে উপজেলা পরিষদ ডরমেটরি ও তিনটি কোয়ার্টার ভবন এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) অধীনে আরও তিনটি ভবন রয়েছে। এসব ভবনের ফ্ল্যাটে কেউ সপরিবারে, কেউ ব্যাচেলর হিসেবে, আবার কেউ কয়েকজন মিলে মেস করে বসবাস করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই বিধি অনুযায়ী বাসা বরাদ্দ নেননি এবং বাসাভাড়াও পরিশোধ করেন না। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের সঙ্গে বাসাভাড়া বাবদ পৃথক ভাতা পেয়ে থাকেন। ফলে সরকারি কোয়ার্টারে বিনা ভাড়ায় থেকে বাসাভাড়ার অর্থও গ্রহণ করছেন তারা। অন্যদিকে ভবনগুলোর বিদ্যুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বিআরডিবি সূত্রে জানা যায়, তাদের অধীনে থাকা তিনটি ভবনের মধ্যে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী ভবনের বাসিন্দারা বিধি অনুযায়ী বরাদ্দ নিয়েছেন এবং নিয়মিত বাসাভাড়া পরিশোধ করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই বিআরডিবির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে কপোতাক্ষ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা ভূমি অফিসের শাহিন মিয়া, নির্বাচন অফিসের কাউসার, বাশার ও নাজমুল, পিডিবিএফ অফিসের আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী, গ্রাম আদালতের বোরহান ও মাসুম মিয়া এবং নিচতলায় আনসার সদস্যরা বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ ভবনের কেউই বরাদ্দ নেননি এবং বাসাভাড়াও পরিশোধ করেন না।

অন্যদিকে এলজিইডির অধীনে থাকা উপজেলা পরিষদ ডরমেটরি, মেঘনা, পদ্মা ও তুরাগ ভবনে কারা বসবাস করছেন, কতদিন ধরে আছেন, তাঁদের নামে বিধি অনুযায়ী বরাদ্দ রয়েছে কি না কিংবা তাঁরা বাসাভাড়া দিচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ে কোনো তথ্যই এলজিইডি কার্যালয়ে সংরক্ষিত নেই। তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে উপজেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে গড়িমসি করেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, মেঘনা ভবনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দুটি ফ্ল্যাটে মেস করে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন। পদ্মা ভবনে সিএ মিলন হোসেন, শিক্ষা অফিসের দিলীপ, ইউএনও কার্যালয়ের রবিন, বিআরডিবির আবু হোসেন এবং এলজিইডি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা মেস করে থাকেন। তুরাগ ভবনে শামীমা এবং উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক দিদার বসবাস করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর কবির সরকার বলেন, “আমরা জুন মাস পর্যন্ত কিছু বিদ্যুৎ বিল আদায় করেছি। ভবনগুলোর বিষয় নিয়ে এলজিইডি এবং ইউএনও স্যারের সঙ্গে সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্যসচিব মো. শাহীনুজ্জামান প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বললেও পরে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সরকারি কোয়ার্টারের তথ্য দিয়ে আপনারা কী করবেন?”

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!