খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে ছয় দিনের বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে পিচঢালা কার্পেটিং। সড়কের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ায় ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। টানা ছয় দিনের বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। খানাখন্দ মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভাঙা অংশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকা থেকে ঝালকাঠির বরিশাল প্রান্তের কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
ওই রুটের বাসচালক মিরাজ জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর দ্রুত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হয়। গত বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চরম বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। পরে শুকনো মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করা হয়। কিন্তু ছয় দিনের বৃষ্টিতেই সড়কে আবার গর্ত তৈরি হতে শুরু করেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। হঠাৎ হঠাৎ গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খানাখন্দ থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে তিন চাকার ছোট যানবাহন।
ইজিবাইকচালক মানুন জানান, সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। খানাখন্দে জমে থাকা কর্দমাক্ত পানি ছিটকে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদেরও দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল-আমীন জানান, রাজাপুর-ভান্ডারিয়া সীমান্তের কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুরের উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছিল। কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। তবে রাজাপুর থেকে উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে গরুর বিচরণের কারণে গোবরের প্রভাবে রাস্তার ওপর যে ক্ষতি হয়েছে, তা বৃষ্টির সময় দৃশ্যমান হয়েছে। আর গাবখান ব্রিজের ওপরের গর্ত পুরোনো সমস্যা। বৃষ্টি কমলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

