একটি রাস্তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ মিটার। কাগজে-কলমে এটি খুবই ছোট একটি সংখ্যা। কিন্তু এই সামান্য পথই প্রতিদিন শত শত মানুষের কাছে যেন এক দীর্ঘ পরীক্ষার নাম। প্রতিটি সকাল শুরু হয় শঙ্কা নিয়ে, আর প্রতিটি সন্ধ্যা ফিরে আসে ক্লান্তি ও বিরক্তি সঙ্গে করে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার চন্ডীবরদী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভিডিপি অফিস থেকে বিশ্বরোড (বটতলা) পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কটি গত তিন থেকে চার বছর ধরে চরম অবহেলার শিকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের পিচ উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির সময় সেই গর্তে জমে থাকা পানি যেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ওপর জমে থাকা নীরব প্রশ্নচিহ্ন।
প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে চলাচল করে। কর্মজীবী মানুষ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে কর্মস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, বৃদ্ধ—সবারই ভরসা এই একটি সড়ক। অথচ প্রতিটি যাত্রাই যেন অনিশ্চয়তায় ভরা।
বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে ঢেকে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। মোটরসাইকেল পিছলে দুর্ঘটনা ঘটে, রিকশা দুলে ওঠে, পথচারীরা সাবধানে চলেও হোঁচট খান।
শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দিতে অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের কাছে এই অল্প পথটুকুও হয়ে ওঠে এক কঠিন সংগ্রাম।
এটি কোনো ব্যক্তিগত রাস্তা নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌর সড়ক, যা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবুও বছরের পর বছর ধরে এটি যেন অপেক্ষা করছে একটি সিদ্ধান্তের, একটি সংস্কারকাজের এবং একটি দায়িত্বশীল উদ্যোগের।
একটি শহরের সৌন্দর্য শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা কিংবা আলোকসজ্জায় নয়; তার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে থাকে মানুষের নিরাপদ চলাচল, স্বস্তিদায়ক সড়ক এবং নাগরিক সেবার মানে। একটি ভালো রাস্তা শুধু ইট, পাথর বা পিচের স্তর নয়; এটি মানুষের সময় বাঁচায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়, শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে এবং একটি জনপদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
চন্ডীবরদীর এই ২০০ মিটার সড়ক তাই শুধু একটি ভাঙাচোরা রাস্তার গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অবহেলা এবং মানুষের নীরব কষ্টের প্রতিচ্ছবি। একই সঙ্গে এটি আশারও গল্প।
স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে এই ছোট্ট পথটিই একদিন স্বস্তির সড়কে পরিণত হবে। কারণ ২০০ মিটার রাস্তা সংস্কার মানে শুধু একটি সড়ক নির্মাণ নয়; এটি শত শত মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের ন্যায্য নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

