AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি ‍‍`বীরাঙ্গনা‍‍` স্বীকৃতি, মানবেতর জীবনযাপন বুলবুলী রানী ঘোষের



স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মেলেনি ‍‍`বীরাঙ্গনা‍‍` স্বীকৃতি, মানবেতর জীবনযাপন বুলবুলী রানী ঘোষের

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‍‍`বীরাঙ্গনা‍‍` হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বুলবুলী রানী ঘোষ (৬৯)। বর্তমানে তিনি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামের বাসিন্দা। বুলবুলী রানী ঘোষ ওরফে বুলী ঘোষ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা কুণ্ডুপাড়া গ্রামের মৃত অমূল্য চন্দ্র ঘোষের আট সন্তানের একজন।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৪ মে ডেমরা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। ওই দিন অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয় এবং অগণিত বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকায় বহু নারীকে আটক করে দীর্ঘদিন পাকবাহিনীর ক্যাম্পে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে অনেকেই মারা গেলেও যারা বেঁচে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুলবুলী রানী ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনের হত্যাযজ্ঞের একপর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁর পিতামহ রাখাল ঘোষকে হত্যা করে। পরে পৈতৃক বাড়ি থেকে পালানোর সময় পাকবাহিনীর সদস্যরা তাঁকে আটক করে পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে একটি ক্যাম্পে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৫ বছর। স্বাধীনতার পর ক্যাম্পে জীবিত থাকা অন্য নারীদের সঙ্গে তিনিও মুক্তি পেয়ে পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসেন।

তিনি জানান, সামাজিক কারণে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। পরে জনৈক প্রদীপ চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি জানাজানি হলে নিঃসন্তান অবস্থায় স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করেন। এরপর আর তাঁর বিয়ে হয়নি। পরবর্তীতে সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে পরিবারটি ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামে বসবাস শুরু করে।

বুলবুলী রানী ঘোষ দাবি করেন, বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়—এ বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে আসছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ডেমরা এলাকায় ওই দিনের গণহত্যায় অন্তত ৮০০ থেকে ১ হাজার মানুষ নিহত হন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ওই এলাকায় অসংখ্য বীরাঙ্গনা রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন না বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি তোলেন না। বুলবুলী রানী ঘোষ বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি সত্য বলে তিনি মনে করেন।

ডেমরা গ্রামের বাসিন্দা, সমাজকর্মী, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এবং পল্লী পাঠাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন। তাঁর মতে, বুলবুলী রানী ঘোষ একাত্তরের একজন বীরাঙ্গনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করবে।

বুলবুলী রানী ঘোষের কাছে থাকা নথিপত্র থেকে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের সঙ্গে ফরিদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক, ফরিদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তৎকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মঞ্জুর মোর্শেদ সেলিম এবং তাঁকে আটক করার প্রত্যক্ষদর্শী সন্তোষ কুমার কুণ্ডু তাঁর দাবির পক্ষে সাক্ষ্য ও সুপারিশ দেন। এছাড়া সাঁথিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক নান্নুও লিখিতভাবে তাঁর নির্যাতনের ঘটনার সাক্ষ্য দেন।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৪ জুন তৎকালীন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহার এক চিঠিতে বুলবুলী রানী ঘোষকে বীরাঙ্গনা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মহিলা মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) যাচাই-বাছাই কমিটিকে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে মতামতসহ সকল সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ জানান। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেন বুলবুলী রানী ঘোষ।

এদিকে আবেদন করেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামের এক প্রান্তে জঙ্গলঘেরা একটি বাড়িতে একাই বসবাস করছেন তিনি। প্রতি মাসে বাড়িভাড়া বাবদ ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। পাশাপাশি বিধবা ভাতার সামান্য অর্থ দিয়ে কোনোমতে তাঁর জীবনযাপন চলছে।

অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল জানান, বুলবুলী রানী ঘোষের আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে তাঁকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনিও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টির অগ্রগতি জানতে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দেখা করতে বলা হয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!