AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সুন্দরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছকর্তনসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ



সুন্দরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছকর্তনসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন, অফিসে বসে মোবাইলে জুয়া খেলা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

এদিকে বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। এ বিরোধের জেরে এক ডজনেরও বেশি রিট ও মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক অবসরে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফ আলী, মো. জাহেদুল ইসলাম এবং বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে অভিযোগ থাকা সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহিনুর বেগমের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে পালাক্রমে তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। গত প্রায় দেড় বছর ধরে মোছা. জাহিনুর বেগম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও অভিযোগকারী মো. আরশাদ আলীর দাবি, গত দেড় বছরে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, রেজিস্ট্রেশন ফি, শিক্ষা বৃত্তি, উপবৃত্তি, টিউশন ফি, রিজার্ভ ও সাধারণ তহবিলসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া গত ১০ জুন বিধিবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দুটি গাছ কেটে ফেলা হয়। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ছামসুল হক অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়মিত অফিসে বসে তাঁর পক্ষের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে মোবাইলে জুয়া খেলেন এবং নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের শতাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহিনুর বেগম বলেন, অবসর সময়ে অফিসে বসে মোবাইলে বিনোদন উপভোগ করেছি। জুয়া খেলা কিংবা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন জানান, বিদ্যালয়টিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলার শেষ নেই। দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত একটি অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ও মামলা বর্তমানে তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক সুপারভাইজার বিষয়গুলো তদারকি করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছ কর্তন, মোবাইলে জুয়া খেলা এবং বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়-সংক্রান্ত আরও একটি অভিযোগের তদন্তও চলমান রয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!