AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভালুকায় প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট



ভালুকায় প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পর্যন্ত তীব্র জনবল সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। ফলে বিদ্যালয়গুলোর তদারকি, পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৬৪ জন প্রধান শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৫ জন। অর্থাৎ ১০৯টি প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। একইভাবে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৯০৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৬০ জন। ফলে ৪৭টি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে। এছাড়া অনেক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদেও জনবল সংকট থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে একসঙ্গে পাঠদান করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রেণি পরিচালনার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারের শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনার লক্ষ্য থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখনো সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধে এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও ব্যক্তিগত মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, "উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারি  শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।"

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি। তাই এ স্তরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, শিক্ষা প্রশাসনে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
 

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!