জীবনের প্রতিটি দিনই যাদের কাছে চলাফেরা একটি কঠিন সংগ্রাম, তাদের সেই কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ৩০ জন অসহায় ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে হুইল চেয়ার তুলে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে স্বেচ্ছাসেবী এই প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে হুইল চেয়ার তুলে দেন।
‘ব্যালেন্স উইদাউট কমপ্রোমাইজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করে আল-খায়ের ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; যথাযথ সুযোগ- সুবিধা, শিক্ষা ও সহযোগিতা পেলে তারাও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।তিনি আরও বলেন, “সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত।
হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত উপকারভোগী আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অন্যের সহায়তা ছাড়া কোথাও যেতে পারতাম না। একটি হুইল চেয়ার কেনার সামর্থ্যও ছিল না। আজ এই হুইল চেয়ার পেয়ে মনে হচ্ছে নতুন করে স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ পেলাম। যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
উপকারভোগী রহিমা বেগম বলেন, বছরের পর বছর ঘরের মধ্যেই থাকতে হয়েছে। কোথাও যেতে হলে পরিবারের সদস্যদের কাঁধে ভর করতে হতো। এখন নিজের মতো করে চলাফেরা করতে পারব। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।
প্রতিবন্ধী এক কিশোরের বাবা আব্দুস সালাম বলেন,আমার ছেলেকে প্রতিদিন কোলে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে হতো। এই হুইল চেয়ার আমাদের পরিবারের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

