ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিচ্যুত দুই চিকিৎসককে পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের মূল ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত দুই চিকিৎসককে বিনা শর্তে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া আরেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে উর্মি আক্তার নামে এক রোগীর মেডিকেল পরীক্ষার স্লিপে বিভাগীয় প্রধানের সিল ও সাক্ষর ব্যবহার করে একটি আবেদন অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, স্লিপে ব্যবহৃত সাক্ষর ও সিল নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের পর দুই চিকিৎসক ডা. সজীব ঘরামী ও ডা. ফয়সাল আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৬ জুন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে তারা ভুল স্বীকার করে পুনর্বহালের আবেদন করলেও সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে চাকরিচ্যুত চিকিৎসকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে এনেস্থিসিয়া বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদেও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই চিকিৎসকের বিষয়ে আমরা কথা বলতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাকেও শোকজ করা হয়েছে।’
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মিথুন আলমগীর বলেন, ‘বিষয়টি বিভাগীয় তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সাক্ষর ও সিল জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান ও কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাইদা রহমান বলেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় অসদাচরণের অভিযোগে আরেক চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।’
এদিকে চিকিৎসকদের কর্মসূচির কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বরিশাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাগর হোসেন বলেন, ‘অপারেশনের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। রোগীদের ভোগান্তির কথা কেউ ভাবছে না।’
মানিকগঞ্জ থেকে আসা জাহানারা বেগম বলেন, ‘শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে।’
কর্মসূচি চললেও হাসপাতালের জরুরি সেবা সচল রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

