লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তার দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৪০), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাহিনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। গুরুতর আহত অপর এক মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন যুবকের মাথায়ও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

