বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আগাম বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কাঠমিস্ত্রি ও কারিগররা। কেউ পুরোনো নৌকা মেরামত করছেন, আবার কেউ খেয়া পারাপার ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নতুন নৌকার অর্ডার দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্ষা ঘিরে নৌকা তৈরির কারিগরদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কেউ কাঠ চিরছেন, কেউ রান্দা দিয়ে কাঠ মসৃণ করছেন, কেউ তক্তা জোড়া দিচ্ছেন। আবার অনেককে তৈরি নৌকায় আলকাতরা লাগাতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বড়াল ও গুমানী নদী এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চলের জেলেরা বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষা শুরুর আগেই নৌকার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তবে আগের তুলনায় নৌকার চাহিদা অনেক কমে গেছে। অধিকাংশ সড়ক পাকা হওয়া, স্বল্প দূরত্বে ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডির জলযানের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন নদীতে সেতু নির্মাণের ফলে উপজেলার বেশিরভাগ খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খেয়া নৌকার চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বর্তমানে মূলত জেলেদের প্রয়োজনেই ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প টিকে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। কারিগররা সংরক্ষিত কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করছেন। কেউ কাঠ কাটছেন, কেউ পেরেক মারছেন, আবার কেউ লোহার পাত ও পেরেক দিয়ে কাঠ জোড়া লাগাচ্ছেন। অনেকেই পুরোনো নৌকা মেরামত করে নতুন করে নদী ও বিলে চলাচলের উপযোগী করে তুলছেন।
স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা জানান, সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের হাতে কাজের অভাব থাকে না। তবে কাঠ, লোহা, আলকাতরাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে। কালের বিবর্তনে অনেক কারিগর এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। বর্তমানে মূলত গ্রামীণ এলাকায় স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য ছোট আকারের নৌকার চাহিদাই বেশি।
নৌকা কিনতে আসা চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান সবুজ মাস্টার বলেন, “চলনবিল অধ্যুষিত আমাদের এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক রাস্তা তলিয়ে যায়। বর্ষাকালে নৌকাই মানুষের প্রধান ভরসা। যদিও নৌকা তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে, তবে এ বছর নৌকার দাম তুলনামূলকভাবে খুব বেশি বাড়েনি।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

