গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৩ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাধারণ নাগরিক, পেশাজীবী, সুশীল সমাজ বা বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় মহলে সমালোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে সীমিত পরিসরে এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌরসভার প্রশাসক ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান শেষ হয় ১২টা ৪০ মিনিটে। অনুষ্ঠানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও সাধারণ জনগণ বা কোনো কমিউনিটি প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না।
এ সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৭ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। তবে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি বলে জানানো হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বাজেট ঘোষণার আগে নাগরিক মতবিনিময় ও উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু এবার সে ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, “বাজেট ঘোষণার বিষয়টি আমি জানতাম না। কমিউনিটির প্রতিনিধিদের না জানিয়ে বাজেট ঘোষণা করায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, “পৌরসভার নাগরিক হয়েও বাজেট সম্পর্কে কিছু জানি না। এটি নাগরিক অধিকার খর্ব করার শামিল।”
শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বেপারী বলেন, “বাজেট ঘোষণার বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। উন্মুক্তভাবে বাজেট ঘোষণা করলে সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পেত।”
গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সকল কমিউনিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বাজেট ঘোষণা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতো।”
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সংসদে যেমন উন্মুক্তভাবে বাজেট উপস্থাপন করা হয়, পৌরসভায়ও তেমন হওয়া উচিত ছিল। নাগরিক হিসেবে বাজেট সম্পর্কে জানার অধিকার আমাদের রয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের কাউকে আমন্ত্রণ জানায়নি। বাজেট প্রণয়নে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।”
এদিকে বাজেট অনুষ্ঠানে কমিউনিটি প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, “পৌরসভায় বর্তমানে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। আর যদি গোপনে বাজেট ঘোষণা করতে চাইতাম, তাহলে সাংবাদিকদেরও আমন্ত্রণ জানাতাম না।”
অনুষ্ঠানে বিগত অর্থবছরে আনুষঙ্গিক খাতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার জানান, বিভিন্ন ক্রয় ও অন্যান্য ব্যয় ওই খাতের আওতায় দেখানো হয়েছে। পরে পৌর প্রশাসক ভবিষ্যতে প্রতিটি ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের মতে, বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষণার প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও জনমুখী হতো।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

