AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

দেবে গেছে ব্রিজ, দুর্ভোগে তিন গ্রামের মানুষ


Ekushey Sangbad
টি আই সানি, শ্রীপুর, গাজীপুর
০৪:০৪ পিএম, ২০ জুন, ২০২৬

দেবে গেছে ব্রিজ, দুর্ভোগে তিন গ্রামের মানুষ

ব্রিজে ফাটল। এর নিচে পলেস্তারা খসে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রডগুলো মরিচা ধরে খসে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে ভাঙ্গনের স্থানে দুই হাত লাঠিতে লাল পতাকা টানিয়ে দায় সেড়েছে কর্তৃপক্ষ দাবি করেন তারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান (পটকা-বাউনি বাজার আঞ্চলিক) সড়কের সেরার খালের ওপর এই সেতুর অবস্থান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনেক বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন প্রায় ৩৮ বছর আগে ব্রিজটি নির্মিত হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই খাল পুণঃখননের পর বর্ষার পানির স্রোতে ব্রিজের নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইট ও মাটি সরে যায়। সম্প্রতি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। তিনটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ পার হয়ে উপজেলা সদর এবং জেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটির ওপর দিয়ে পটকা, বাউনী এবং হায়াতখারচালা এই তিন গ্রামের প্রায় হাজার হাজার লোকজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এছাড়াও স্থানীয় পোশাক কারখানা প্রোস্টার অ্যাপারেলস লিমিটেড, নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারীর হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী, হেরা পটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পটকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতো। বর্তমানে ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা চলাচল বন্ধ করে দেয়।

পটকা গ্রামের বাসিন্দা নাঈম বলেন, সেরার খালের ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় আমাদেরকে সাত কিলো মিটার ঘুরে শ্রীপুর-বাউনী সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে তেমনি সময়ের অপচয় হচ্ছে এবং রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে।

হায়াতখারচালা গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় মানুষ আর পারাপার করতে পারছে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারন মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। সহজ রাস্তা হিসেবে ওই তিন গ্রামের লোকজন এ সড়কটি ব্যবহার করতেন। একমাত্র সড়কের ব্রিজ দেবে যাওয়ায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে তাদের গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

৬০ বছর বয়সী আব্দুল জব্বারের ভাষ্য, প্রায় ৩৫-৪০ বছর ধরেই তিনি সেরের খালের ওপর ব্রিজটি দেখছেন। তিনি বলেন, এখন ব্রিজটির যে অবস্থা, তাতে দ্রুত মেরামত না করলে দুর্ঘটনার কবলে পড়বে যানবাহন। প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

বাউনী গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্রিজটি মেরামতের জন্য তাঁরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু এটি নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগে থেকেই যদি ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নিতো তাহলে আজকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হতো না আমাদের।

স্থানীয় শিক্ষার্থী জুয়েনা আক্তার বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই কলেজে যাতায়াত করতাম। এখন ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় ব্যায় করে সাত কিলোমিটার ঘুরে শ্রীপুর-বাউনী সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে।

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, অনেকদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে যানবাহন ও মানুষ পারাপার বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ব্রিজের নিচের অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ব্রিজটি অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (লাল পতাকা) টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!