সহাকারী শিক্ষক হিসেবে শুরু আর প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদায় নিলেন কোটচাঁদপুরের শেখ মোজাফফর হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায় দিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক- বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘোড়ার গাড়ির পিছনের দুইটি ভ্যানে ছিল শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের ভালবাসার উপহার।
জানা যায়,ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সিঙ্গিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মৃত জুরআলী মন্ডলের ছেলে আব্দুল আজিজ। লেখা পড়া শেষ করে ১৯৮৬ সালে কোটচাঁদপুরের শেখ মোজাফফর হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। সেই থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে বেশ কয়েক বার সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। তারপর থেকে শিক্ষক আব্দুল আজিজ সুনামের সহিত ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ৯ আগষ্ট তিনি বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান।
আব্দুল আজিজের লেখা পড়ার হাতে খড়ি হয় কোটচাঁদপুরের বলরামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মাধ্যমিক পাশ করেন খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। আর আইএসসি পাশ করেন কোটচাঁদপুর খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে। এরপর চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে পাশ করেন বিএসসি।
সংসার জীবনে তিনি দুই মেয়ে এ সন্তানের জনক। শনিবার ছিল সেই গুনী প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা। এই কারনে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকেন বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপর সকাল ১০ টায় বিদ্যালয়ের হল রুমে শুরু হয় বিদায়ি সংবর্ধনার আনুষ্ঠিকতা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিয়ার রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বলুহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বলুহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফ আলী,বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহাজান আলী, কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান, জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আক্তার জাহান,সাবেক শিক্ষক সাবেক শিক্ষক বিমল ভোমিক,হুমায়ুন কবির।
অনুষ্ঠানে স্মৃতি চারন মূলক বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপর দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় আনুমানিকতা।
পরে বিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদায়ি প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের হাতে তুলে দেন তাদের ভালবাসার উপহার সামগ্রী। এরপর প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁর ৩৭ বছর কাটানো প্রধান শিক্ষকের কক্ষে।
তারপর কিছুক্ষন সবার সময় কাটে নিরবতায়। এরপর তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। তারপর সেই বিদায়িক্ষন। এ সময় ওই প্রধান শিক্ষকের দুই পাশ থেকে দুই হাত ধরে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দিলেন,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। এরপর ওনারাও চড়ে বসলেন গাড়িতে। সাথে ছিলেন ছোট মেয়ে তানিয়া খাতুন। গাড়ির পিছনে মটর সাইকেলে ছিলেন বড় মেয়ে রোমানা আফরোজ ও
ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঘড়িতে তখন ৪ টা বাজে। ঘোড়ার গাড়িটি ছুটতে থাকেন কোটচাঁদপুরের সিংঙ্গিয়া গ্রামে প্রধান শিক্ষকের বাড়ির দিকে। এ সময় পিছনে ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এ ব্যাপারে আব্দুল আজিজ বলেন,১৯৮৬ সালে ৬ জন শিক্ষক,২ জন কর্মচারি নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেি প্রতিষ্ঠা কালিন সময়ে অনেক মানুষের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে আজকের এই প্রতিস্ঠানটি গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ২২ বছর বয়সে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলাম। আজ ৬৩ বছর হল বিদ্যালয়টি থেকে অবসর নিলাম। আমি চাইবো আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটি আরো সুন্দর হক। সারাদেশে এই বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও প্রতিষ্ঠাতা গোলাম রসুল বলেন,একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্য লক্ষ্য জাতি কে উন্নতি করা। যে দেশ যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত। সেই দেশ ও জাতি তত উন্নত। শিক্ষা মানুষকে আলোর পথ দেখায়, মুক্তির পথ দেখায়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

