ছেলের উপবৃত্তি টাকা না পেয়ে শিক্ষা অফিসের পাশে এসে ক্ষোভ ঝারলেন আমিনুল নামের এক শিক্ষার্থী অভিভাবক। শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করলে তা মূহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। বুধবার আবারও দেশীয় অস্ত্র (দা) নিয়ে শিক্ষককে একই হুমকি দিয়ে ছেলের উপবৃত্তির বিষয়টি তুলে ধরে আরেকটি ভিডিও আপলোড করেন। এতে করে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জানা গেছে, আমিনুল ইসলামরের ছেলে আইমান শেখ নেত্রকোনার মদন উপজেলার মাঘান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারীতে জাহাঙ্গীরপুর মডেল সরকারি বিদ্যালয়ে আইমানকে চতুর্থ শ্রেনিতে ভর্তি করে তার অভিভাবক। গত ১৫ জুন উপবৃত্তির বিষয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবক আমিনুল ইসলাম জানতে পারে তার ছেলে উপবৃত্তি নিয়মিত পাচ্ছে। কিন্তূ উপবৃত্তির টাকা অজানা একটি মোবাইল নম্বরে যাচ্ছে।
পরে আমিনুল ক্ষিপ্ত হয় এবং বিচারের আশায় ১৬ জুন উপজলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন। অফিসে কাউকে না পেয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্ডে একটি ভিডিও আপলোড করে। ভিডিওতে সে অভিযোগ করে উপবৃত্তির টাকা মাঘান স্কুলের প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করছে। পরে শিক্ষককে হুমকি দিয়ে উপবৃত্তির টাকা কোথায় গেছে তা বের করবে বলে জানায়।
পরবর্তিতে আবারও ১৭ জুন দেশীয় অস্ত্র (দা) হাতে নিয়ে শিক্ষককে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জীবনের নিরাপত্তাহনীনতায় ভুগছে। তবে যে মোবাইলে উপবৃত্তির টাকা ট্রান্সপার হয়েছে ওই মোবাইল নম্বরটি ফরিদপুর জেলার বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক আমিনুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোন উপবৃত্তির টাকা পায়নি। চতুর্থ শ্রেণিতে আামি তাকে জাহাঙ্গীরপুর মডেল স্কুলে ভর্তি করি। গত সপ্তাহে আমার ছেলের উপবৃত্তির বিষয় জানতে গেলে মোবাইলে টাকা আসে বলে জানান। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে শিক্ষক বলে আমি টাকা পাচ্ছি। টাকা না পাওয়ায় বিষয়টি জানতে শিক্ষা অফিসে যাই। পরে ক্ষোভে আমি এসব কথা বলি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তার জানান, শিক্ষার্থী আইমনের উপবৃত্তির টাকা আরেক জনের মোবাইলে গিয়েছে। আমি তাকে বিষয়টি জানালেও সে ক্ষোভে শিক্ষা অফিসে আবার বাড়িতে দা নিয়ে ভিডিও করে পেইজে দিয়েছে। পরে আবার তার আত্মীয় স্বজন আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এর পরেও নিরাপত্তাহনীনতায় ভুগছি।
মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঝুমা আক্তারের সাথে কথা বলব।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, এ বিষয়টি আমি জানি না। আমাকে কেউ অবগতও করেনি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

