গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক পানি পান করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী, অসুস্থ শ্রমিক এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন। পানি পান করার মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিকের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সকাল ১০টার পর পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ির মাধ্যমে শ্রমিকদের দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিক এবং গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
খবর পেয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এতে হাসপাতালগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অসুস্থ শ্রমিক মিতু, শাহনাজ, সাবানা, মাহমুদা ও শিমু আক্তার জানান, “পানি খাওয়ার সময়ই পচা ধরনের গন্ধ অনুভব করি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং বমি হতে থাকে। অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়েন। কয়েকদিন ধরেই পানির স্বাদ ও গন্ধে সমস্যা ছিল। বিষয়টি ব্যবস্থাপনাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজী শফিক বলেন, “কারখানার আশপাশে ভাড়া বাসায় থাকা শ্রমিকরা সকালে কী ধরনের খাবার বা পানি গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। আমাদের কারখানার ডিপ টিউবওয়েল ও ফিল্টারের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল আবাসিক কর্মকর্তা ডা. মুনিয়া সুলতানা বলেন, “সকাল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। উপসর্গগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) অথবা দূষিত পানিবাহিত কোনো সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে ৩০ থেকে ৪০ জনকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, “ঘটনার পর কারখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

