AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
স্কুল হোস্টেলে ছাত্রের মৃত্যু

অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে মামলা, তিন দিনেও থামেনি বিক্ষোভ



অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে মামলা, তিন দিনেও থামেনি বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হলের একটি কক্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রামগঞ্জ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় নিহতের বাবা জিয়াউদ্দিন রামগঞ্জ থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলায় অধ্যক্ষসহ দ্বাদশ শ্রেণির সাতজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জিয়াউদ্দিনকে জানানো হয়, তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ এবং দ্রুত বিদ্যালয়ে আসতে হবে। তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় স্ত্রী, ভাই, ভাগিনা ও মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, মেহেদীকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেহেদী মারা গেছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আবাসিক হলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে মেহেদীসহ কয়েকজন কনিষ্ঠ শিক্ষার্থী নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়, কয়েকদিন আগে দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন চুরির ঘটনায় মেহেদীকে সন্দেহ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করায় পরবর্তীতে তাকে আবারও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরিবারের দাবি, ওই নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের মা শারমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে কয়েকদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। এমনকি ছেলেকে হাসপাতালে নিতে গাড়ি চাইলেও অধ্যক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।”

মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

পরদিন বুধবার মরদেহ নিয়ে থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে। এতে লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ এবং রামগঞ্জ-চাটখিল সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহতের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “মেহেদীকে মারধরের অভিযোগে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই খবর পাই, সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।”

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “আমি শিক্ষার্থীর জানাজায় অংশগ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!