মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চরম উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক সভাপতির পদ দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত হেমায়েত হোসেন খান ডাসার উপজেলা কৃষক লীগের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এর আগে তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও মিডিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং বর্তমান সভাপতির ওপর অনাস্থা এনে সংগঠনটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৯ জন সক্রিয় ও সম্মানিত সদস্য। এই গণপদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং সচেতন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর ধরে কোনো ধরনের সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা নির্বাচন ছাড়াই একক আধিপত্য বিস্তার করে সংগঠনটি নিজের মতো পরিচালনা করছেন হেমায়েত হোসেন। সাধারণ সদস্যদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও সভাপতির একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে অবশেষে ফেটে পড়েছেন সংবাদকর্মীরা।
পদত্যাগকারী সংবাদকর্মীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, "একটি স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর পদ দখল করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা বারবার সংগঠনে সুষ্ঠু ও পেশাদার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই আমরা এই অনাস্থা এবং একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।"
এদিকে, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীর পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠনে এভাবে দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী কায়দায় নেতৃত্ব দেওয়া এবং তার জেরে একযোগে ৯ জনের গণপদত্যাগের এই ঘটনাটি এখন পুরো ডাসার উপজেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত হেমায়েত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

