AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সরকারি রাস্তার পাশের গাছ উধাও, চাতাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ
১০:০৯ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৬

সরকারি রাস্তার পাশের গাছ উধাও, চাতাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

জয়পুরহাটের কালাই পৌর এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে সুফলভোগীদের লাগানো ও দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা করা আটটি পরিণত ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক চাতাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তনকৃত গাছের গুড়ি জব্দ করে এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কালাই পৌরসভার মূলগ্রাম-হাটশেখা সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের প্রাথমিক হস্তক্ষেপে গাছের অবশিষ্টাংশ জব্দ করা হলেও এরই মধ্যে অধিকাংশ কাঠ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সুফলভোগীরা।

উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে স্থানীয় বন বিভাগের সহযোগিতায় রূপায়ণ কৃষক সমবায় সমিতির সুফলভোগীরা সামাজিক বনায়নের আওতায় রাস্তার দুই পাশে ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন। বছরের পর বছর পরিচর্যার ফলে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে বিক্রয়যোগ্য অবস্থায় পৌঁছেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কালাই পৌরশহরের মূলগ্রাম- হাটশেখা সড়কের পাশে অবস্থিত নিজের বাড়ি ও অটোরাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারে থাকা আটটি ইউক্যালিপটাস গাছ সোমবার সকালে কেটে ফেলেন চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম। গাছ কাটার পর দ্রুত ট্রাকযোগে অধিকাংশ কাঠ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কয়েকটি গুঁড়ি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবশিষ্ট গাছের গুঁড়ি জব্দ করেন। অভিযুক্ত শামসুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে তাঁর ছেলে গোলাম রব্বানীকে কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কর্তনকৃত গাছের আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকারও বেশি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

রূপায়ণ কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন,গাছগুলো আমাদের সমিতির সুফলভোগীদের। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমরা এগুলোর পরিচর্যা করেছি। এখন গাছগুলো বিক্রির উপযোগী হওয়ায় একতরফাভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে। আমরা বাধা দিয়েছি কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। প্রশাসন আসার আগেই অধিকাংশ কাঠ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এটি শুধু কয়েকটি গাছ কাটার ঘটনা নয়; এটি সুফলভোগীদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও অধিকার ক্ষুণ্ন করার ঘটনা।আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।

কালাই বনবিভাগের বন প্রহরী ইয়াসির আরাফাত বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছের দৈনন্দিন তদারকির দায়িত্ব বন বিভাগের নয়। তবে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।

অভিযুক্ত শামসুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানী দাবি করেন, জমি এবং গাছ—দুটিই আমাদের মালিকানাধীন। সেই কারণেই আমরা গাছ কেটেছি। এখন কিছু লোক অযথা দাবি করছে এগুলো সমিতির গাছ। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে দেখিয়েছি। গাছ না সরানোর শর্তে মুচলেকা দিয়ে ফিরে এসেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তনকৃত গাছের অবশিষ্টাংশ জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি, তাই তাঁর ছেলেকে ডেকে আনা হয়েছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাছ সরানো যাবে না এবং নতুন কোনো গাছ কাটা যাবে না—এ মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!