একসময় গ্রামবাংলার খাল-বিল, ডোবা, পুকুরপাড় ও ঝোপঝাড়জুড়ে সহজেই দেখা মিলত বনকচুর। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এ উদ্ভিদ ছিল গ্রামীণ মানুষের পরিচিত ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ন, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই বনকচু।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েক দশক আগেও বর্ষা মৌসুমে বনকচু সংগ্রহ করে পরিবারের খাদ্য তালিকায় রাখা হতো। অভাবের সময়ে এটি অনেক পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করত। বনকচুর পাতা ও কাণ্ড রান্নার পাশাপাশি লোকজ চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হতো। তবে সঠিকভাবে রান্না না করলে গলা চুলকানোর সমস্যা হতে পারে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বনকচুর নাম জানলেও এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।
উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের কৃষক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় কেউ এখন বনকচু সংরক্ষণ বা চাষে আগ্রহী নয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বনকচু ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।”
কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহিনূর ইসলাম বলেন, “বনকচু বাংলাদেশের জলাভূমিভিত্তিক একটি বন্য উদ্ভিদ। পরিবেশ দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে এর সংখ্যা কমছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বনকচু শরীরের শক্তি জোগায়, হজমে সহায়তা করে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক ডা. ঈশিতা দাশ বলেন, “বনকচু শুধু একটি সবজি নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, প্রোটিনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এটি রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা, হাড় মজবুত করা, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বনকচুর মতো দেশীয় ও পুষ্টিকর উদ্ভিদ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এ ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদান সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

