নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৪টি বিলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভরাট হয়ে যাওয়া পানি নিষ্কাশনের খালটি পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালিকাপুর মৎস্যজীবীপাড়া ব্রিজ এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর আগে গোয়ালমান্দা ঈদগাহ মোড় থেকে একটি প্রতিবাদ র্যালি বের হয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৎস্যজীবীপাড়া ব্রিজে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুব আলম, উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দুলাল হোসেন, ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ, কৃষক মকলেছার রহমান, আবুল কাসেম ও সাদেক হোসেন প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালমান্দা, চকউদয় নারায়ণ, বারিল্যা ও কদমতলী বিলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নামার একমাত্র খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় অন্তত ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে কৃষকেরা কোনো ধরনের ফসল আবাদ করতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকলেও তা পুনঃখননে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি দ্রুত পুনঃখনন করা হলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সহজেই নেমে যাবে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে খরা মৌসুমে খালের আটকে থাকা পানি কৃষিকাজে সেচ হিসেবে ব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
আন্দোলনরত কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। বিঘার পর বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে থাকায় এলাকায় কৃষি উৎপাদন যেমন কমছে, তেমনি আমাদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।” দ্রুত খাল পুনঃখনন করা হলে এলাকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

