AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষা অফিস ঘেরাও



প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষা অফিস ঘেরাও

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, বিচারাধীন মামলা এবং সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগ এনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগকারীরা জানান, মো. শফিকুল ইসলাম পূর্বে একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. মোস্তফা কামাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তার বেতন-ভাতা স্থগিতের দাবি জানানো হয়।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে পাঠানো এক স্মারকে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজ ইবনে আইয়ুব, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিনকে সদস্য করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালের ২ আগস্ট নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে দায়ের করা মামলা নং-৭৭/২০২৪ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এমপিও নীতিমালা-২০২১-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে বলেও তদন্ত কমিটি মতামত দেয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এতসব অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক সুপারিশ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তার চাকরি এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রধান শিক্ষক কীভাবে এমপিওভুক্ত হলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।”

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!