রাজশাহীর তানোরে কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে বিলের পাকা আধাপাকা ধান মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে। অপর দিকে বৃষ্টিতে আলুর জমিতে রোপন কৃত ধানে উপকার হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। ফলে একদিকে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে বিলের জমির ধান।
ফলে বিলপাড়ের কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। অন্যদিকে সদ্য রোপনকৃত জমিতে রহমতের বৃষ্টি পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৭ টা ৪০ মিনিটের দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়লেও সময়ের সাথে সাথে ঝড় শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ৮ টা থেকে ৮ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলে ঝড় বৃষ্টি। পরে রাত সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত আকাশ পরিস্কার থাকে। ১২ টা ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের দিকে আকাশে প্রচুর মেঘের গর্জন শুরু হয়। তারপরেই ঝড় বইতে শুরু করে। ঝড়ের সাথে বৃষ্টি নামাও শুরু হয়।
প্রায় ঘন্টা ব্যাপী চলে এমন আবহাওয়া। আবহাওয়াতেই বিলের পাকা আধা পাকা ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ে। অবশ্য পরদিন রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন বৈরি আবহাওয়া ছিল না। সারা দিন নুয়ে পড়া ধান গাছ টেনে তুলে একটার সাথে আরেকটা বাধতে দেখা যায়।
বিলপাড়ের কৃষক এন্তাজ জানান, প্রায় দুই বিঘা বিলের নিচু জমিতে ধান রোপন করা ছিল। ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কাটা হত। কিন্তু গত শনিবারের রাতের ঝড় বৃষ্টিতে জমির পুরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কেবল পাক ধরেছে। অনেকে পড়ে থাকা ধানগাছ তুলার চেষ্টা করছেন। এখন ধান পাকতে কয়েকদিন দেরি হবে। কারন পড়ে থাকা ধানে রোদের তাপ লাগবে কম। এজন্য পাকতে দেরি হবে। পাকলেও কাটতে শ্রমিক লাগবে বেশি। আবার পড়ে থাকা ধান কাটতে চাই না শ্রমিকরা। এছাড়াও বিঘায় দু তিন মন ফলন কম হবে।
ফারক নামের আরেক কৃষক জানান, ২২ কাঠা জমির পুরো ধান শুয়ে পড়েছে। শুধু আমার না সবার ঝড় বৃষ্টিতে শুয়ে গেছে।
শাকির নামের আরেক কৃষক জানান, বিলের নিচু জমির ধানগাছে পাক ধরেনি। বিলের উপরের জমির ধান পেকে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাটা হবে। নিচের কাঁচা আধা পাকা ধান পড়ে যাওয়ার কারনে কৃষকের ক্ষতি হবে। তবে উপরের পাকা ধানে তেমন ক্ষতি হবে না।
মনির নামের বিল পাড়ের কৃষক জানান, বিলের উপরের ১৬ কাঠা জমিতে ধান রোপন করা হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যে কাটা হবে। ঝড় বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে ধানের গাছ। তবে তেমন ক্ষতি হবে না।
জানা গেছে, উপজেলায় দুই ভাগে ইরি বোরো ধানের চাষাবাদ হয়ে থাকে। বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়ে থাকে। আর আলু তোলার পর আরেক দফা ইরি বোরো ও আউশ ধানের চাষ হয়ে থাকে। উপজেলার চান্দুড়িয়া ব্রীজ ঘাট হয়ে তানোর পৌরসভা দিয়ে কামারগাঁ ইউপি এলাকার চৌবাড়িয়া ব্রীজ পর্যন্ত বিলের জমিতে চাষ হয়েছে বোরো ধানের।
বিলের জমিতে কম বেশি একসাথে জমি রোপন ও কাটা হয়। তবে বিলের একেবারে নিচু এলাকার জমি রোপনে বিলম্ব হয়। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই নিচু জমির ধানে ক্ষতি হয় বেশি। বিলের জমির ধান বৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে পড়ে গেলেও, আলুর জমির রোপন কৃত বোরো, আউশ ধান গাছে বৈশাখের ঝড় বৃষ্টি কৃষকের আশীর্বাদে পরিনত হয়েছে।
পলাশ নামের আলুর জমিতে বোরো রোপন কারী জানান, যে ভাবে খরতাপ শুরু হয়েছে এবং ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ নেয়া যাচ্ছিল না। ঘন্টার ঘন্টা অপেক্ষা করেও পানি মিলছিল না। শনিবারের রাতে বৃষ্টি না হলে অনেকের ধান সেচ পানির অভাবে পুড়ে যেত।
হাবিল নামের আরেক কৃষক জানান, আলু তোলার পর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধান রোপন করা হয়েছিল। সেচের জন্য হাহাকার চলছিল।
রফিকুল নামের আরেক কৃষক একই ধরনের কথা জানিয়ে বলেন, বৃষ্টিতে আলুর জমিতে রোপন করা ধানে প্রচুর উপকার হয়েছে। অনেকে পানির জন্য আগাছা দমনের জন্য কীটনাশক দিতে পারছিল না। আগাছায় ভরে গেছিল জমি।
বিলপাড়ের কৃষকরা জানান, বিলের জমির ধান কাটার আগ মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। কাটার আগে হয় প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি না হয় ঝড় হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারো কোন কিছু করার নেই। শনিবারে রাতে ঝড় বৃষ্টি হলেও রবিবার পুরো দিন প্রয়োজন মত রোদ ছিল। ধান কাটার আগ মুহূর্তে ঝড় বৃষ্টি না হলে তেমন ক্ষতি সাধন হবে না। আর যদি ঝড় বৃষ্টি হয় তাহলে ক্ষতি হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কারো কোন হাত নেই। আলুর জমির জন্য বৃষ্টি কৃষকের আশীর্বাদে পরিনত হয়েছে। আর বিলের পাকা ধান বা বিলের উপরি ভাগের জমির ধান গাছ তেমন ভাবে পড়েনি। তবে নিচের কিছু ধান পড়েছে।
এতে খুব একটা ক্ষতি হবে না। যাদের ধান কাটার মত অবস্থা হয়ে আছে তারা যেন ধান কেটে নেই। যাদের ধানগাছ পড়ে গেছে ওইসব গাছ তুলে দিতে পারলে ভালো হয়। তাহলে রোদ লাগবে সব গাছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পেকে যাবে বলে জানান তিনি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

