ছোটবেলায় অপেক্ষায় থাকতাম কখন বিকেল হবে আর কখন খেলতে নামবো। এক মহল্লার অনেক ছেলেপেলে একসঙ্গে বিকেলে ফুটবল নিয়ে মাঠে নামতাম। খেলার ফাঁকে এক সময় বেলের টুংটাং আওয়াজ।
তখনই বুঝতাম ‘আইসক্রিম চাচা’ এসেছেন। নিচে চাকা লাগানো একটি আইসক্রিমের কাঠের তৈরি গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে আসছেন শৈশবের প্রিয় ‘আইসক্রিম চাচা’। ৫০-৬০ টাকার ‘কোন আইসক্রিম’ নয় ১ টাকার আট আনার ‘ আইসক্রিম’।
আরও ছিল কাঠি লাগানো দুধ-চিনির তৈরি আইসক্রিম । এগুলোই ছিল শৈশবের জনপ্রিয় সব আইসক্রিম। শুধু যে আমাদের ছোটদের কাছে এই আইসক্রিম জনপ্রিয় ছিল এমনটা নয়। এই আইসক্রিমের স্বাদ নিতেন ছোট-বড় সবাই।
কাঠের বাক্সের সঙ্গে ঝোলানো একটি পলিথিনে থাকতো কোন আইসক্রিমের কোনাকৃতির অংশ। বরফের অংশ থাকতো একটি স্টিলের তৈরি বাক্সে। আবার কেউ কেউ দুধ-চিনির তৈরি আইসক্রিমও বিক্রি করতেন।
ছোট থাকায় আইসক্রিম খেতে বায়না ধরতাম মায়ের কাছে। আইসক্রিমের গাড়ির সঙ্গে একটি গোলাকৃতির কাঠের তক্তা ছিল। ওটা ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা উঠাতে পারলে পাওয়া যেত বাড়তি আইসক্রিম।
ছোটবেলার সেই এক টাকার কোন আইসক্রিম কিংবা দুধ-চিনির তৈরি আইসক্রিমের স্বাদ ছিল অতুলনীয়। মুখে দিতেই অন্যরকম স্বাদে হারিয়ে যেত যে কেউই। এই স্বাদের ব্যাখ্যা অনুভব করা যায়, তবে প্রকাশ করার মতো নয়।
দিন বদলেছে। বাজারে নেমেছে জনপ্রিয় সব ব্র্যান্ডের আইসক্রিম। ইগলু ,পোলার, জাএ জি এর মতো জনপ্রিয় সব আইসক্রিমই এখন বেশি পছন্দ মানুষের। সেই এক টাকার কোন কিংবা দুধ চিনির তৈরি আইসক্রিমও এখন বিক্রি হয় ১০ টাকায়। তবে এখন আর বিকেল হলে এসব আইসক্রিম বিক্রেতাদের তেমন দেখা যায় না।
তার বদলে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের আইসক্রিমের গাড়িই বেশি দেখা যায়। তবে শৈশবের সেই আইসক্রিম বিক্রেতাদের দেখা যায় গ্রামের মেঠোপথে।
মজাদার এই আইসক্রিম বানাতে লাগতো দুধ, চিনি ও পানি। কেউ কেউ নারকেলের ব্যবহার করতেন। আর কোনাকৃতির অংশ বানানো হয় ডিম, চিনি, সয়াবিন তেল, দুধ ও ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে। আর ফ্রিজিং করার জন্য দরকার হতো বরফের।
দিন দিন শৈশবের সেই আইসক্রিমের চাহিদা কমছে। তার বদলে নানা ব্র্যান্ডের আইসক্রিমই এখন বর্তমান প্রজন্মের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এসব ব্র্যান্ডের আইসক্রিমের সঙ্গে পাল্লায় না পেরে অনেকেই ঘরের তৈরি আইসক্রিম বিক্রি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। জড়াচ্ছেন অন্য পেশায়।
শৈশবের কথা মনে পড়লে এখনো সেই আইসক্রিম বিক্রেতাদের খুঁজে বেড়াই। রাস্তাঘাটে যখন তাদের দেখি তখন সত্যিই খুব ভালো লাগে। এখন এক টাকার আইসক্রিম ১০ টাকা দিয়ে কিনি। তবুও শখের সেই আইসক্রিম খেতে ভুলি না।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

