সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরের বুকে হতাশার আগুনে জ্বলছে কৃষক। লাগাতার অতিভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে হাওরগুলো। তলিয়ে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ নিচু জমি; ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি।
কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধানের কাঁচা ও আধাপাকা ফসল পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে অধিকাংশ জমি।
মধ্যনগর উপজেলা-সহ হাওরাঞ্চলের প্রায় সব হাওরই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। আধাপাকা বোরো ধান কৃষকরা না পারছেন কাটতে, না পারছেন পানির কবল থেকে রক্ষা করতে। এর মধ্যে উপজেলার কাইল্যানী, রূপেশ্বর, বোয়ালা, গোড়াডুবা ও বানচাপড়া হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সেচ মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু মেশিনে পানি নামালেও টানা বৃষ্টির কারণে আবারও হাওরগুলো পানিতে ভরে যাচ্ছে।
ফলে সারা এলাকায় ফসল হারানোর যন্ত্রণায় বুকভরা আর্তনাদ আর চাপা কান্নায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। মাত্র ১৫ দিনের অপেক্ষায় ছিলেন তারা—স্বপ্ন ছিল বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে সোনালি ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন চোখের সামনে পানিতে ডুবে গেছে। নষ্ট হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য ধান এবং গবাদিপশুর খাদ্য খড়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টগার হাওর, বোয়ালা ও গুড়াডোবা হাওরের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ধানক্ষেত ইতোমধ্যে পানির নিচে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা রুদ্ধকণ্ঠে জানান, “সারাবছরের কষ্টের ফসল মাত্র ১৫ দিনের অপেক্ষায় ছিল কাটার জন্য। কিন্তু এর আগেই কালবৈশাখী বৃষ্টির পানিতে সব তলিয়ে গেছে।”
এলাকা ঘুরে জানা যায়, অধিকাংশ কৃষকই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। অনেকেই লাভের আশায় সুদের টাকায় জমি চাষাবাদ করেছিলেন। এখন তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওরের ছোট ছোট নালা-খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। তাছাড়া নদীর গভীরতা কম থাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নামতে পারে না। প্রতিটি হাওরে পর্যাপ্ত স্লুইসগেট না থাকায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগও সীমিত।
তাদের দাবি, সরকার যদি সুপরিকল্পিতভাবে হাওর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করে, তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাবে। টগা-টঙীর বাঁধ, বোয়ালা-গোড়াডোবা বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ হাওরগুলোতে স্লুইসগেট স্থাপন এবং উব্দাখালী ও মনাই নদীসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয় খনন করলে স্থায়ী সমাধান মিলতে পারে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ এলাকার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

