AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

হিমাগারে যাওয়ার আগেই পানিতে ডুবল আলু, কৃষকের চোখে অশ্রু


Ekushey Sangbad
আব্দুল্লাহ সউদ, কালাই, জয়পুরহাট
০৪:৫৯ পিএম, ১৩ মার্চ, ২০২৬

হিমাগারে যাওয়ার আগেই পানিতে ডুবল আলু, কৃষকের চোখে অশ্রু

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় হঠাৎ হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ সময়ে এমন বৃষ্টিতে পানির নিচে ডুবে গেছে আলু, গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেকেই মাঠ থেকে আলু তুলে হিমাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে সেই আলু ডুবে গিয়ে পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে কালাই উপজেলার আঁওড়া, হাতিয়র, তালোড়াবাইগুনি, কালিমহুর, ঝামুটপুর ও বানিহারা এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। জমির ওপর জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিচু জমিতে নেমে গিয়ে ফসলের ক্ষতি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যেসব পথ দিয়ে বৃষ্টির পানি সহজে পারাপার হতো, সেসব পথ অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ওপরের জমি থেকে নেমে আসা পানি নিচের জমিতে জমে ফসল তলিয়ে দিচ্ছে। এতে কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সকাল থেকেই জমিতে শ্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মাটি কেটে নতুন করে পানি নামার পথ তৈরি করছেন। তবুও অনেক ক্ষেতেই পানি দ্রুত নামছে না। এতে জমিতে পড়ে থাকা আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

আঁওড়া গ্রামের কৃষক লাবু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কয়েকদিন আগে আলু তুলে জমিতেই শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেসব আলু বস্তাবন্দি করে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালবেলার হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু ডুবে গেছে। এখন পানি সরালেও এসব আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, এত পরিশ্রম করে চাষ করা ফসল এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকের কিছু করার থাকে না।

হাতিয়র গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, কিস্তির টাকা তুলে তিনি আলু চাষ করেছিলেন। বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কিছুদিন অপেক্ষা করে আলু হিমাগারে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব আলু তলিয়ে গেছে। এখন কিস্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর আবারও আলুর আবাদ করেন। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রাখার জন্য মাঠে রেখে দিয়েছিলেন। রোজার মধ্যে দুই-এক দিনের মধ্যেই আলু তুলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় এখন আলু তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, জন্মের পর এই মাঠে কখনো বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে দেখেননি। তার মতে, রাস্তার পাশে পানি পারাপারের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বামুন গ্রামের কৃষক আইয়ুব প্রামাণিক জানান, দুই-এক দিনের মধ্যেই আলু তুলে বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় এখন আলু উত্তোলন করা যাচ্ছে না। পানি না শুকালে আলু তোলা সম্ভব হবে না এবং ততদিনে আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তেলিহার গ্রামের আলুচাষি সামছুদ্দিন এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে স্ট্রিক জাতের আলু চাষ করেছেন। তিনি জানান, ফলন ভালো হওয়ায় কয়েকদিন দেরি করে আলু তুললে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে ভেবে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভেজা আলুর বাজারদর কম পাওয়া যায় এবং এসব আলু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও সম্ভব হয় না।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, উপজেলার কিছু মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয় বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত পানি না নামলে আলুসহ অন্যান্য ফসলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষকদের দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 


একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!