AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

মায়ের মৃত্যুর পর নবজাতককে দত্তক নিতে রামেকে মানুষের ভিড়


Ekushey Sangbad
আব্দুল বাতেন, রাজশাহী
১২:৪৮ পিএম, ১১ মার্চ, ২০২৬

মায়ের মৃত্যুর পর নবজাতককে দত্তক নিতে রামেকে মানুষের ভিড়

নওগাঁর মান্দা উপজেলা-র তাহমিনা বেগম (২৫) সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যাওয়ার ঘটনায় তার নবজাতক সন্তানকে দত্তক নিতে মানুষের ভিড় জমেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এসে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবজাতকের পাশে কোনো অভিভাবক নেই—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বালুবাজার গ্রামের বাসিন্দা রিপন আলীর স্ত্রী তাহমিনা বেগম গত রোববার সন্তানসম্ভবা অবস্থায় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি হন। সেখানে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রসূতির সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় পুলিশি সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও নবজাতককে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মান্দা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, রোগীর সঙ্গে যাওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে পুলিশি হেফাজতে মা ও শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাহমিনা বেগম মারা যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই পুলিশ সদস্য নবজাতককে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন এবং মায়ের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তাহমিনা বেগমের ভাতিজা রেজওয়ান, ফুফাত ভাই মাহমুদ ও ভাবী দেলজান হাসপাতালে এসে মরদেহ গ্রহণ করেন।

এদিকে নবজাতকের সঙ্গে কোনো অভিভাবক নেই—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত তাহমিনা বেগমের ভাতিজা রেজওয়ান জানান, আগের দিন তারাই মরদেহ গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। দাফন শেষে শিশুটিকে নিতে এসে দেখেন অনেকে সেটিকে বেওয়ারিশ মনে করে দত্তক নিতে চাইছেন।

তিনি আরও বলেন, শিশুটির বাবা রিপন আলীর বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। দারিদ্র্য বা চিকিৎসা ব্যয়ের আশঙ্কায় তিনি হয়তো আত্মগোপনে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, বৈধ অভিভাবক উপস্থিত থাকলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি রাজপাড়া থানা-কে জানানো হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে শিশুটিকে স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!