রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লা বারুইপাড়া এলাকায় এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন।
বক্তারা বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো গর্ভবতী মা, নবজাতক ও ছোট শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখা।
বক্তারা আরও বলেন, একজন মা সুস্থ থাকলে তার শিশুও সুস্থ থাকে। তাই গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কমপক্ষে চারবার গর্ভকালীন সেবা (চেকআপ) নেওয়া প্রয়োজন। এতে মা ও শিশুর সম্ভাব্য সমস্যাগুলো আগে থেকেই শনাক্ত করা যায়।
গর্ভাবস্থায় মায়েদের পুষ্টিকর খাবার—যেমন ডাল, ডিম, মাছ, মাংস, শাকসবজি, দুধ ও ফলমূল—খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
নিরাপদ প্রসবের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, সম্ভব হলে হাসপাতালে বা দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় প্রসব করানো উচিত। এতে মা ও শিশুর ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
শিশু জন্মের পরপরই মায়ের প্রথম দুধ বা শালদুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এটি শিশুকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর ঘরোয়া খাবার দিতে হবে।
এ ছাড়া শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার বিষয়েও সচেতন করা হয়, কারণ টিকা শিশুদের অনেক মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
বক্তারা জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করছে। তাই সবাইকে এ কর্মসূচির নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।
উঠান বৈঠকে এলাকার উপকারভোগী নারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

