AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

এক মাসে ‘বিদ্যুৎ বিল ৮৭২ টাকা থেকে ৬১ হাজার!


Ekushey Sangbad
আব্দুল্লাহ সউদ, কালাই, জয়পুরহাট
০৩:৫৮ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এক মাসে ‘বিদ্যুৎ বিল ৮৭২ টাকা থেকে ৬১ হাজার!

কালাই উপজেলাজুড়ে হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা। এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো বাড়িতে বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ আবার কারও ক্ষেত্রে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, সেই দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাট জেলার কালাই পৌরশহরের তালুকদার পাড়া মহল্লায়। প্রবাসী মো. মোরশেদ তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

গতবছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি দেশে এসে নিজ বাড়িতে এক মাস অবস্থান করেন এবং তখন পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ নেন। বাড়িতে ব্যবহার হয়েছে  পাঁচটি পাখা, দশটি বাতি, একটি ফ্রিজ ও একটি টেলিভিশন। তিনি দেশে না থাকলে কেবল বাইরের তিনটি বাতি জ্বলে।

গত ডিসেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল আসে ৮৭২ টাকা। জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ চলাকালে ব্যবহার হয় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ, বিল হয় ৯ হাজার ২৬৭ টাকা। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে বিল আসে ৬১ হাজার ১০ টাকা, যেখানে ব্যবহার দেখানো হয় ৪ হাজার ১৫০ ইউনিট।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং দেখা যায় ৪ হাজার ৯২৯ ইউনিট অথচ বিলের কাগজে উল্লেখ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৮০ ইউনিট। পরে অভিযোগ জানালে সংশোধন করে ১ হাজার ৪৭ টাকার বিল দেওয়া হয়।

বাড়ির কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুল স্বীকার করে অফিস বিল ঠিক করে দিলেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

শুধু একটি পরিবার নয়, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। কালাই কলেজপাড়ার বাসিন্দা কাজী তানভিরুল ইসলাম জানান, তার মাসিক বিল সাধারণত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে।

ডিসেম্বর মাসে বিল ছিল ৮১০ টাকা অথচ জানুয়ারিতে আসে ৩ হাজার ১১০ টাকা।বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয় আগের বকেয়া যুক্ত হয়েছে। তবে নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও কীভাবে বকেয়া যুক্ত হলো, সে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি পাননি।

পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আব্দুল কাফি বলেন, তার প্রতি মাসের বিল ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১ হাজার ২২৫ টাকা।

একই গ্রামের স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও বিল এসেছে দ্বিগুণের বেশি। তিনি বলেন, মিটার রিডিং নিয়মিত না নেওয়া কিংবা অনুমাননির্ভর হিসাবের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

হাতিয়র গ্রামের গৃহিণী শামসুন্নাহার বেগম জানান, তাদের পরিবারের বিল হঠাৎ ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আঁওড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।

ধুনট গ্রামের কৃষক মাহবুবর রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিমাসে বিল শুধু বাড়তেই থাকে।তিনি অফিসে একাধিকবার গিয়েও সঠিক ব্যাখ্যা পাননি; বরং নানা কাগজপত্রের ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালাই জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৪৭ হাজার ১০ জন গ্রাহক রয়েছেন। তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহে নির্মাণ করা হয়েছে ৮৭৭ কিলোমিটার লাইন।

২০২৫ সালের জুন থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ কোটি ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করে সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মাস থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে বলে দাবি করেন কর্তৃপক্ষ।

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের ভুল, অনিয়মিত হিসাব কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণেই বিল দ্বিগুণ থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, অভিযোগ জানাতে গেলে দ্রুত সমাধান না পেয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, বিল বেশি করার কোনো সুযোগ নেই।

কোথাও ভুল হলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করা হচ্ছে। প্রবাসীর বাড়ির বিল বৃদ্ধির ঘটনাকে তিনি ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করে জানান, গ্রাহক অফিসে আসার পরপরই সংশোধনী বিল দেওয়া হয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!