ভোলায় নিখোঁজের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন মাসের শিশু জিন্নাতকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুমাইয়া আক্তার (৩০), স্বামী আব্দুল রউফ চাকলাদার, দক্ষিণ চরপাতা এলাকার বাসিন্দা, তার তিন মাসের শিশু জিন্নাতকে টিকা দেওয়ার জন্য মালের হাট বাজার টিকাকেন্দ্রে যান। পরে তিনি দাবি করেন, দুইজন অজ্ঞাত মহিলা তার হাতে ২০০ টাকার একটি নোট দিলে তিনি অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন এবং ওই সুযোগে শিশুটিকে নিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে ভোলা সদর থানা, ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম আশপাশ এলাকায় চিরুনি অভিযান ও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। পাশাপাশি বরিশাল রেঞ্জের বিভিন্ন লঞ্চঘাট এবং ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে সুমাইয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পরে তিনি স্বীকার করেন, তার খালা আমেনা বেগমের মেয়ের সন্তান না থাকায় স্বেচ্ছায় শিশু জিন্নাতকে দত্তক দিতে রাজি হন। বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি অপহরণের গল্প সাজান বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমেনা বেগম একই দিন দুপুর ২টায় ‘দোয়েল পাখি-১০’ নামের লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন শিশুটিকে নিয়ে। তথ্যের ভিত্তিতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাদের আলাদা রাখা হয়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা লঞ্চে গিয়ে আমেনা বেগম ও শিশুটিকে হেফাজতে নেন।
ভোলা সদর থানার একটি বিশেষ টিম ঢাকায় গিয়ে কোস্টগার্ডের কাছ থেকে তাদের জিম্মায় নিয়ে ভোলায় ফিরিয়ে আনে। পরবর্তীতে ভোলা সদর মডেল থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষিতে আদালতের মাধ্যমে শিশু জিন্নাতকে তার অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
নিখোঁজের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করায় স্থানীয়রা ভোলা জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

