পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল শহরে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। বিশেষ করে হবিগঞ্জ রোডে প্রায় সারাদিনই যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট লেগেই থাকে। পাশাপাশি স্টেশন রোড ও মৌলভীবাজার রোডেও নিয়মিত যানজট দেখা যায়। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বাড়লে ভানুগাছ রোডেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় কয়েকশ মিটার পথ পাড়ি দিতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে এবং জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে যানজট নিরসন করতে হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হবিগঞ্জ রোড, মৌলভীবাজার রোড ও স্টেশন রোডসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে নিত্যদিন তীব্র যানজটের অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ড, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল, ভ্রাম্যমাণ দোকান, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ও টমটমের দৌরাত্ম্য এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এসব যানবাহন আঞ্চলিক মহাসড়কসহ শহরের ব্যস্ত সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা নিয়ম না মানায় যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া ফুটপাতে অবৈধ পার্কিং ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে পথচারীরা সড়কে নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, শহরের বিভিন্ন সড়কে টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। আগে অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও এদের দাপট। ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
আরেক দোকানদার সোহান মিয়া বলেন, প্রতিদিন দোকানের সামনে তীব্র যানজট হয়। ধোঁয়া, শব্দ ও গরমে ব্যবসা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, অটোরিকশাগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়, ফলে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, সময় নিয়ে বের হলেও যানজটে আটকে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়। পরীক্ষার সময় সমস্যাটা আরও প্রকট হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গলে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩ মিটার হবে। এতে রোড ডিভাইডারসহ ১১টি কালভার্ট, একটি সেতু ও ল্যাম্পপোস্ট থাকবে। সড়কটি সকিনা সিএনজি পাম্পের উত্তর পাশ দিয়ে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের কারিতাস কারিগরি কেন্দ্রের পাশে গিয়ে যুক্ত হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা।
ট্রাফিক বিভাগ জানায়, যানজট নিরসনে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তবে জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, পৌর প্রশাসক ও ইউএনওর নির্দেশে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক সার্জেন্ট (টিআই) হাসান আল মামুন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যান এখানে চলে এসেছে। পর্যটকেরা রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কেনাকাটা করায় যানজট বাড়ছে। এছাড়া মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ সেন্ট্রাল রোডে ঢোকার সময়ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার জেলার প্রবেশ ও প্রস্থানের গেটওয়ে। মূল সড়কগুলো সরু হওয়ায় এবং পর্যটকের চাপ বাড়ায় যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শহরের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

