AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ



চট্টগ্রাম-৮ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও–পাঁচলাইশ) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠ। প্রার্থীরা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। এর মধ্যে নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন। জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বোয়ালখালী উপজেলার ভোটারদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে প্রচারণায় প্রার্থীদের সর্বাধিক নজর বোয়ালখালী উপজেলাকেন্দ্রিক।

এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের, ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বৃহত্তর সুন্নী জোটের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের আপেল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আলম।

তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয়জন প্রার্থী থাকলেও বাস্তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থীদের মধ্যেই মূলত ত্রিমুখী লড়াই দৃশ্যমান।

বোয়ালখালীর ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটাররাই হতে পারেন ‘টার্নিং পয়েন্ট’। এ ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করেই বিএনপি, জামায়াত ও বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছেন।

জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিলেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ও মাঠে থাকছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আবু নাছেরের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ ও মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এই আসনকে ত্রিমুখী সমীকরণে ফেলেছে।

বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে আইটি ফার্ম স্থাপনের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে নির্বাচনী মাঠে এগোচ্ছেন। তিনি নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা’ এবং বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে স্থানীয়ভাবে জামায়াতের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকায় নির্বাচনের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা পথসভা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিন প্রধান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতায় পুরো নির্বাচনী এলাকা সরগরম।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যোগ্যতা, সক্ষমতা ও এলাকার উন্নয়ন বিবেচনায় ভোটাররা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না থাকায় ভোটাররা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!