AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
কুড়িগ্রাম

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর; এখনো বিচারের আশায় তার পরিবার


Ekushey Sangbad
আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম
০৬:৩৭ পিএম, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর; এখনো বিচারের আশায় তার পরিবার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ‍‍`র গুলিতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয় কিশোরী ফেলানী।

দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টা কাটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর মৃত দেহ। তখন গণমাধ্যম সহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। পরে বিএসএফ‍‍`র বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারীক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাক্ষান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রীট আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। তবে ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছরে পড়লেও এখনো ফেলানী হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নূরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাও এলাকায়। নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে নিজ দেশে ভারতের কাটাতার টপকে আসতে হবে তাদের। ৭ জানুয়ারী শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এসময় ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয় সে। গুলি বিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। 

এরপর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরে ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ‍‍`র এ কোর্টে স্বাক্ষীদেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ‍‍`র বিশেষ কোর্ট।
পরে রায় প্রত্যাক্ষান করে পুন:বিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ০২ জুলাই এ আদালত পুনরায় আত্মস্বীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানী শুরু হয়। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮  সালে কয়েক দফা শুনানী পিছিয়ে যায়। পরে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা শুরুর আগে শুনানীর দিন ধার্য হলেও শুনানী হয়নি এখনো। রীটের সর্বশেষ খবরও নেই ফেলানীর পরিবারের কাছে।
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ আমার মেয়েকে পাখীর মতো গুলি করে হত্যা করেছে। কত রক্ত যে পড়েছে দুই দেশের মাটিতে। ১৫টা বছর হয়ে গেল ফেলানী হত্যার বিচার পেলাম না। বিচারের অপেক্ষায় এখনো আছি।
এদিকে, মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হয়ে ১৫ বছরে পরলেও বিচার পেলাম না। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে বিচারটা নিয়া গেলাম, কয়েকবার শুনানীর তারিখ দিলেও তা পিছিয়ে গেছে। এখন তো আর কোন খবর পাইনা। আমার মেয়ে ফেলানীর বিচার হলে সীমান্তে আর মানুষ মরতো না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি ফেলানী হত্যার বিচারটা যেন করে। মরার আগে আমি বিচারটা দেখে যেতে চাই।
রীটপিটিশন ছাড়াও ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানী হত্যা ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ১ম ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট সালমা আলী ২য় বাদী হয়ে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয় (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া) এর সচিব এবং বিএসএফ এর মহাপরিচালককে বিবাদী করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নয়াদিল্লীতে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী একটি ফৌজদারী মামলা করেন। তারা ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ফেলানীর বাবার জন্য অন্তবর্তীকালীন ক্ষতিপুরন চেয়ে আরও একটি আবেদন করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সালমা আলী মুঠোফোনে জানান, মামলাটি ভারতের সুপ্রিমকোর্টে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, ফেলানী হত্যার বিচার ভারতের আন্তরিকতার অভাবে হচ্ছে না। বিচারটা হলে সীমান্ত হত্যা কমে আসতো। ভারতের উচিৎ ফেলানী হত্যার বিচার ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত নিস্পত্তি করা। 
 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!