৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে তাপমাত্রা
বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা
পাহাড়-হাওর ও চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় বইছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। তাপমাত্রা নেমেছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রির ঘরে। গত কয়েক দিন ধরেই এ জেলায় দিন-রাত বইছে হিমেল হাওয়া। জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা। সেই সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে কনকনে শীত। তীব্র ঠান্ডায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এতে নাকাল জেলার শ্রমজীবী মানুষ।
ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার ৯৩টি চা বাগানের চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কাজে যেতে হচ্ছে চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের। তবে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় চা শ্রমিকসহ অসহায় ছিন্নমূল মানুষেরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার সারাদিন কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ, দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মেলেনি। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষজন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ।
জেলায় বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতজনিত রোগে প্রতিদিন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ভীড় প্রতিদিন বাড়ছে।
শহরের ভ্যানচালকরা জানান, এই কনকনে শীতে সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়া যায় না। এতে আমাদের মতো খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। শ্রমিকেরা জানান, সকালে ঠান্ডায় কাজ করতে ভীষণ কষ্ট হয়। পরিবারের কথা ভেবেই এই ঠান্ডার মাঝেও আমাদেও কাজ করতে হচ্ছে। কী আর করার আছে? স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানায়, পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো: আনিসুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার জেলায় মৃদু শৈতপ্রবাহ বইছে। আজ সকালে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে ওঠানামা করছে। মৃদু শৈতপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে দিনের বেলা রোদ না থাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পৌরসভা ও উপজেলায় গরিব অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো বিতরণ করা হবে।
আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

