চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাঠজুড়েই এখন শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মূলা, সরিষা, টমেটো, পালংশাক, কপিশাক, লালশাকসহ নানা ধরনের শীতকালীন শাকসবজি।
এর মধ্যে ফুলকপি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষকই ফুলকপি চাষে ঝুঁকেছেন। বর্তমান বাজারে ফুলকপির ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজিতে মাঠ ভরে গেছে।
এসব ফসলের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। ভোরে কোদাল, নিড়ানি, বালতি ও স্প্রে মেশিন নিয়ে তারা মাঠে নেমে পড়ছেন। বিকেল পর্যন্ত মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন সবাই।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি এবং ২০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজি বাজারে ওঠে। তবে এ বছর কৃষকেরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে সরবরাহ করছেন। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে।
তিনি বলেন, কৃষকেরা এখন জমি থেকে ফুলকপি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। উৎপাদিত ফুলকপি স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ফুলকপির বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে কৃষকেরা সন্তোষ প্রকাশ করছেন। কেউ খুচরা, কেউ আবার চুক্তিভিত্তিকভাবে ব্যাপারীদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন।
খরণদ্বীপ এলাকার কৃষক রূপক দে জানান, তিনি অক্টোবরে ৩৮ শতক জমিতে আগাম মন্টিন (জাপানি) জাতের ফুলকপি চাষ করেন। সাথী ফসল হিসেবে কোরিয়ান জাতের মিষ্টি কুমড়াও লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তিনি পাইকারি হিসেবে ৮৫ হাজার টাকায় ফুলকপি বিক্রি করেছেন। এতে আড়াই মাসে খরচ বাদে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১০–১৫ দিনের মধ্যে হাইব্রিড স্নো-বক্স জাতের ফুলকপি এবং এটলাস-৭০ ও গ্লোরি-১ জাতের বাঁধাকপি বিক্রির উপযোগী হবে। এরপর বাজারে আসবে স্নো-হোয়াইট জাতের ফুলকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমজুড়ে খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে, ঝুন্টু দে, করলডেঙ্গা এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম, মো. জামাল উদ্দিন, জৈষ্টপুরা গ্রামের কৃষক মো. ইছাকসহ অনেকেই ফুলকপি চাষ করে লাভবান হওয়ার কথা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, বোয়ালখালীতে এ বছর ২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মন্টিন (জাপানি), স্নো বক্স, স্নো হোয়াইট ও হোয়াইট কুইন জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ অঞ্চলের কৃষকেরা আধুনিক সবজি চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহার ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে কৃষকেরা ফলন ও দাম—দুটোই ভালো পাচ্ছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

