AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বিল ভরাটে পথে বসেছে অষ্টগ্রামের জেলেরা, ইজারা বাতিলের দাবি


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
১২:২৭ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিল ভরাটে পথে বসেছে অষ্টগ্রামের জেলেরা, ইজারা বাতিলের দাবি

প্রাকৃতিক ভরাটে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার রোদ্দা–মামদা–পাতিদিয়া–ডুইয়া বিল জলমহালের জেলে পরিবারগুলো। মাছ নেই, আয় নেই—সংসার চালানো এখন তাদের জন্য চরম সংগ্রামের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় জলমহালটির ইজারা বাতিল করে সরকারি দখলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলে সমিতি ও স্থানীয়রা।

জেলে সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের ২৫ মার্চের এক স্মারকের মাধ্যমে ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁদেরহাসি মৎস্যবীজী সমবায় সমিতিকে জলমহালটির ইজারা দেওয়া হয়। প্রথম চার বছর বার্ষিক ইজারামূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৪ লাখ ৫ হাজার ৯২০ টাকা এবং পরবর্তী দুই বছর ২৫ শতাংশ বর্ধিত হারে ইজারা মূল্য নির্ধারিত হয়। ১৪২৭ থেকে ১৪৩১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ইজারার টাকা পরিশোধ করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভরাটের কারণে বর্তমানে জলমহালটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

সমিতির দাবি, প্রাকৃতিক কারণে জলমহালটির প্রায় ৬০ একর এলাকা বালুতে ভরাট হয়ে চর জেগে উঠেছে। এতে মাছ উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন আয় না থাকায় জেলে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেক পরিবার দিনমজুরি ও ঋণের ওপর নির্ভর করে কোনোরকমে টিকে আছে। ইজারা বহাল থাকলে অনাহার ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলে মো. মঈন উদ্দিন মিয়া বলেন, আগে বিলে গভীর পানি ছিল। লিজ নেওয়ার পর ভ্যাট–ট্যাক্স ও প্রাকৃতিক ক্ষতির কারণে কয়েক বছরে প্রায় ২৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। হ্যান্ডওভার দিতে চাইলেও মামলা–ভয়ের কারণে শেষ বছর কিস্তিতে চালাতে বাধ্য হই।

জেলে মোহাম্মদ সাখাওয়াত বলেন, ডিসি অফিসে একাধিকবার জলমহাল হ্যান্ডওভার দিতে গিয়েও তা গ্রহণ করা হয়নি। বালু ও নদীর স্রোতে বিল নষ্ট হয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হলেও কোনো আয় হয়নি। ঋণের চাপে আমাদের জীবন বিপন্ন।

জেলের ছেলে শামীম বলেন, শৈশবে যেখানে গভীর পানি ছিল, এখন সেখানে মরুভূমির মতো অবস্থা। কাজ না থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। ডিসি সাহেবের দয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

মোহাম্মদ সাদত আলী বলেন, ছয় বছরে বালু ও পানির ক্ষতিতে আমাদের ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। খাজনা বেড়েছে, কিন্তু মাছ ধরার কোনো সক্ষমতা নেই। হ্যান্ডওভারও গ্রহণ করা হয়নি। পুনরায় তদন্ত করে আমাদের এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, সরকারি জলমহাল নীতিমালা–২০০৯ অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের পর ভরাট বা অন্য কোনো সমস্যার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকারি পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো বকেয়া থাকলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সার্টিফিকেট মামলা সহ সরকারের প্রচলিত সব আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। ইজারাদারদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!